লি বাই

আদনানুর রশিদ

যিনি অনেক সময় লি পো নামেও পরিচিত ছিলেন, ট্যাং সাম্রাজ্যের সময়কার একজন প্রধান চৈনিক কবি। তাকে ট্যাং সাম্রাজের শ্রেষ্ঠ কবি বলে বিবেচনা করা হয়। তার সময়কালকে বলা হয় প্রাচীন চৈনিক কবিতার স্বর্ণযুগ । লি বাই সংখ্যা ও গুণ উভয় বিচারেই গুরুত্বপূর্ণ কবি ছিলেন। তার সময়কার কাব্যরীতিও তার কাব্যগুণে সমৃদ্ধ হয়। এখনো পাওয়া যায় এমন প্রায় হাজারখানেক কবিতা, তার লেখা বলে বিবেচনা করা হয়। তিন শত ট্যাং কবিতা নামক জনপ্রিয় কবিতা সঙ্কলনে তার ৩৪টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

লি বাই-এর দুটি কবিতা

গিরিপথের ওপরে চাঁদ

(মূল : Moon Over Mountain Pass)

ভাষান্তর : আদনানুর রশিদ

 

একটি উজ্জ্বল চাঁদ উদীয়মান তিয়ানশান পাহাড়ের ওপর,

হারিয়ে গ্যাছে অসীম মেঘের সমুদ্রে,

সুদীর্ঘ বাতাস, হাজারের পর হাজার মাইল জুড়ে,

প্রবাহিত হয় জেড-গিরিপথ পেরিয়ে,

হান-এর সৈন্যরা চলে গ্যাছে নিম্নাভিমুখে বেইতেং রোড ধরে,

যখন বর্বর লোকেরা দলে দলে সূক্ষ্ম তদন্ত করে কিংহ্যাই উপত্যকায় ।

এটা জ্ঞাত যে যুদ্ধক্ষেত্র হতে খুব কম-ই বেঁচে ফিরবে ।

গ্যারিসনে পুরুষগণ সীমান্তপটের দিকে তাকিয়ে থাকে,

বাড়ির চিন্তা দুঃখ গভীরতর করে তাদের চেহারায় ।

দুর্গবিশিষ্ট সভাকক্ষে এই রাতে,

বিরামহীন হয় নারীদের দীর্ঘশ্বাসগুলো ।


ওয়াইনের মধ্যে আনয়ন

(মূল : Bringing In The Wine)

ভাষান্তর : আদনানুর রশিদ

 

দ্যাখো কিভাবে হলুদ নদীর জল সড়ে যায় স্বর্গ থেকে

সমুদ্রে প্রবেশ করতে, কখনো ফিরবে না ।

দ্যাখো কি সুদৃশ্য জলকপাট উজ্জ্বল আয়নায় উচ্চ সভাকক্ষের মধ্যে,

যদিও রেশমকালো সকালে,

রাতের মধ্যে বদলে যায় বরফে ।

…ওহ একজন তেজী মানুষকে উদ্যোগ নিতে দিন যেখানে তিনি খুশি হন

এবং চাঁদের দিকে বাড়িয়ে ধরা তার শূন্য সোনালি পাত্র কখনো উল্টে দেবেন না !

যখন স্বর্গ এই প্রতিভা দিয়েছিলো, তা বহাল থাকতে দিন !

রুপোর হাজার টুকরো ঘোরান, তাদের প্রত্যেকেই ফিরে আসবে !

ভেড়া রান্না করুন, একটি গরু হত্যা করুন, ক্ষুদাকে তীব্র করুন,

এবং আমাকে তৈরি করুন, তিন হাজার বাটি থেকে, একটি লম্বা পানীয় !

…পুরাতন গুরুকে, ‘চেন’,

এবং তরুণ শিষ্য, ‘ডানকিয়্যু’,

ওয়াইনের মধ্যে আনো !

আপনাদের পাত্রগুলোকে কখনো বিশ্রাম নিতে দেবেন না !

আমাকে একটি গান গাইতে দিন !

আপনাদের কানদ্বয়কে উপস্থিত থাকতে দিন !

ঘন্টা এবং ডঙ্কা কী, দুর্লভ থালাবাসন এবং গুপ্তধন ?

আমাকে চিরকাল মাতাল থাকতে দিন এবং কখনো যুক্তিতে আসবো না !

বিগতের দিনের সংযমী পুরুষ এবং ঋষিরা স্মরণাতীত,

এবং শুধু মহান মাতালগণ সবসময়-ই জনপ্রিয় ।

… রাজকুমার ‘চেন’ পরিপূর্ণতার প্রাসাদে এক ভোজনোৎসবে দিয়েছিলেন

দশ হাজার মুদ্রা এক পিপে ওয়াইনের জন্য, সাথে অনেক উপহাস ও বিদ্রুপ ।

কেন বলা, আমার নিমন্ত্রণকর্তা, যে আপনার টাকা উধাও ?

যান এবং ক্রয় করুন ওয়াইন এবং আমরা তা একসাথে পান করবো !

আমার পুষ্পতিলকিত ঘোড়া

আমার পশমগুলোর মূল্য হাজারে,

বালকের নিকট তা বিনিময় করুন পরিবর্তে ভালো ওয়াইন,

এবং আমরা দশ হাজার প্রজন্মের দুর্দশাকে দূরে সড়িয়ে রাখবো !

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *