সাপ এবং সুড়ঙ্গ

পিনাকি                          

                                     ১ 

হাত ঘড়িটা  দেখেই    আরেকবার  রাস্তার  দিকে  তাকালো ।  তানিয়ার  খুব রাগ  হচ্ছিল ।   অপেক্ষা  তার  পছন্দের   নয় । সে  স্কুল জীবন  থেকে   যখন  বন্ধুদের  সাথে  পায়ে  হেঁটে  বাড়ি ফিরত ,    কখনই কোন  বন্ধুর  জন্য  দাঁড়াতে  হলেই —  মুখ  হয়ে যেত ভার ।   জেদি   মানুষকে  সবাই এড়িয়ে  চলতে  চায় ।  তানিয়াকে   এড়িয়ে  চলা  সম্ভব  নয় , তাকে  সমঝে    চলত  সবাই ।  মেধা  আর  অন্যের  জন্য   জীবনপণ  স্বভাব , তাকে   কাছের  মানুষদের  কাছে  এতটাই  গুরুত্বপূর্ণ  করে তুলেছিল  , সে  না  চাইলেও  মাথায়  তুলে  রেখেছে ।  এই  ভালোবাসার  সুযোগ কি না  জানেনা , তবে  হ্যাঁ  রেগে  গেলে  কাউকে  রেয়াত  করে না  ;  এমন  স্বভাব  নিয়েই   সেই  বর্ধমানের ছোট্ট  শহর    থেকে  ,  কলকাতায়  এসে পড়েছে ।

আবার ঘড়িতে  তাকিয়ে  দেখল – রাত নটা !

কোয়েস্টমলের    উল্টো   দিকে  বাস স্টপে  , দাঁড়িয়ে  রয়েছে ।  প্রীতম  আসবে ।   কথা  আছে  ওলা করে  এসে   নামবে ।  দু’জনে  বেকবাগান  যাবে । এখানে  ছোটমাসির  বাড়ি ।  রাতে  ডিনার  শেষ  করে  ,  হলুদ  ট্যাক্সি   ধরে  বাঘাযতীন  । কথা  ছিল   শপিংমলের  থেকে  মেসোর  জন্য   দামী  পারফিউম  আর  মাসীর জন্য  নাইটি  কিনবে ।

সবকিছু  কিনে , হাতে  নিয়ে  দাঁড়িয়ে  পথের  দিকে  চেয়ে  আছে  ,  মাথায়  এক   বিস্তর  আকাশ , ছড়িয়ে  রয়েছে    কয়েকশ – কয়েকশ  আর  গুনে  শেষ  করতে  পারবেনা  –  এত  তারা ! চিকচিক  করে  জ্বলছে । কলকাতা  এইসব  দামী   নক্ষত্রের  খবর  রাখেনা ,  তার  চোখে  ঝলমলে  বিজ্ঞাপনে  মুড়ে  থাকা    বিশ্বায়নের  আলো ।  গ্রামে  শান্ত  অন্ধকার  রাস্তায়  হাঁটতে  গিয়ে ,  একান্ত  আকাশ প্রহরীদের  সাথে  সখ্যতা  হয়েছে ,  তানিয়া  সেই   সম্পর্কে  ছেদ             ঘটাতে  চায়না  ।  কলকাতায়  এসেও  অবসরে  এই  নক্ষত্রমালার  দৃশ্য  তাকে  বেশ  আনন্দ দেয় ।

মুঠোযন্ত্র বাজতেই  , তানিয়া  দেখল  মাসির  নম্বর  স্কিনে  ভাসছে ।

-হ্যাঁ , দেরী হয়েগেল । আমি  তোমায়  আগেই  ফোন করে জানাতাম ।

মাসি  , তানিয়াকে  বলছে –  আমি  চিন্তা  করছিলাম , জামাই  আসবে  তো ।

-আর  জামাইয়ের  কথা বাদ  দাও ।  আমার  আজ  যাওয়া  হবেনা ।

-কেন  ?

– শরীরটা  খুব  খারাপ  , আচমকাই  কলেজ থেকে  ফিরে  বমি –বমি ভাব ।

-কেন  আবার  কিছু  বাঁধিয়ে বসলি নাকি !

-না  , তলপেটে  চিন চিন  করছিল । গা  ঘুলিয়ে   এসেছে ।  বমি হল । ভাবলাম  আজ আর  তোমার বাড়ি যাবনা ।

-সে  বেশ  করেছো । তা  কাল  একবার  কলেজ  থেকে  ফিরতি  পথে  আমার বাড়ি  আসতে  হবে  ।  আমি  তোমার জন্য  রান্না  করেছি ,  নিয়ে  যাবে ।

-সে   আমি  এমনিতেই  যেতাম । রাতের  দিকে  ।

-জামাইকে  নিয়ে  আয় না  ।

-প্লিজ মাসী ,  প্রীতমের  ব্যাপার আমি  বলতে পারব না  ।  ইভেন্টের কাজ  ,  বুঝতেই পারছ । আজ  আগে  ফিরেছে ।আমিই  বললাম  থাক ।

তানিয়া  সামনের  দিকে  তাকিয়ে  বলল – আচ্ছা  রাখছি  । কাল  সকালে  কথা  বলব । গুডনাইট …

 

প্রীতমকে  দাঁড়িয়ে  থাকতে  দেখেই ,   তানিয়ার  এই  মুঠোযন্ত্র কেটে  দেওয়া  ; সামনে  যে আছে —  সব  বুঝেছে ।

-তুমি ।

প্রীতম  এমনিতেই   তানিয়াকে  ঘাটিয়ে নিতে ভয় পায়  । একমাস  বিয়ে  হলেও ,  তাদের  মধ্যে  কোন  সম্পর্কই  হয়নি ।  এই  রকম অবস্থায়  প্রীতম  নিজে  একদম ভার্জিন , কেননা  কোন  মেয়ে  বন্ধু  তার  এই  বয়স  পর্যন্ত  নেই এবং  যৌনতায়  এখনো   সে  সহজ  নয়  ;  তানিয়াকে  দেখে  মনে  হয়না  — বিয়ের  আগে    সঙ্গম  করেছে ।

 

প্রীতম  বিক্ষিপ্ত  গলায় ,   হোঁচট  খাওয়া  গলায়  এবং  যুদ্ধ  শুরু হওয়ার আগে  পরাজয়  মেনে  নেওয়া –   গলায়   বলল –দেরী  হয়ে  গিয়েছে ।  মাপ  করবে । আমি আসলে ,আমি এই এখানে  সামনেই … মানে  অফিস  থেকে  বেরিয়ে   ট্যাক্সি। তখন …। কী বলব …।

এই ক্ষিপ্ত বিক্ষিপ্ত  শব্দ  আর   ভাঙতে  থাকা  আবেগকে  সোজা  সরল  রূপ দিলে   –  আমি  অফিস  থেকে  বেরিয়ে ,   ট্যাক্সি  ধরব , এমন  সময়  বসের  ডাকে  ছাড়তে  বাধ্য  হলাম ।  খুব খারাপ লাগছে , দুঃখিত  দেরী  হয়ে  গেল …

প্রীতমের  এই  কথাটা  , তানিয়া  বুঝতে  পারল  না  ।  অথবা  বুঝতে  চাইল  না ।  কেননা , মাসী   বাড়ি  যাওয়ার  প্ল্যান  তার  আর  নেই  ।

-ঠিকাছে । চলো ।

-বেকবাগান । তোমার মাসির  বাড়ি ।

-সময় ?

-হ্যাঁ  এগারোটা । মানে…

-থাক  আর  মানে  -মানে  করতে হবে  না  ।  ভদ্র লোকের  বাড়িতে  এখন  যাওয়া যায়  না  ।

-তুমি  বলেছিলে ।

-প্রীতম । শুধু আমি  নই , আমরা  দু’জনেই  ঠিক  করেছিলাম । তুমি  ফোন করবার প্রয়োজন  মনে করলে না ! বাদ দাও ।

-আমিতো  বললাম ।   আমাদের  এই  ফিল্ডে খুব  চাপ ।  ব্যাপারটা বোঝো । আমি   নিজেও  তাড়াতাড়ি  এসেছিলাম।

-এটা  তাড়াতাড়ি ! কথা  ছিল দশটা …

                                          

সকালে  প্রাতরাশের   টেবিলে   দু’জনেই   খুব  একটা  কথা বলল না।  প্রীতমের  ইচ্ছা  ছিল  ,  কিছু  কথা  বললেই সে  আরেকবার  ক্ষমা  চেয়ে  নেবে  ।  এটা  খুব  লজ্জার  তাদের  মধ্যে  বিয়ের  তিনমাসেও  সম্পর্ক  সহজ –সরল  হয়ে  উঠল না  ! মাসীর  বাড়ির  ঘটনা  যদি  শুধুই  মাসী  বাড়িতে  থাকত , তবে  হয়ত  আজ  এই  গল্পের  উপাদান  হয়ে  উঠত  না  ! ওদের  ভিতরের   আসল  সমস্যা  অন্য ।

খুশবন্ত  সিং     ভারতীয়  দম্পতির    দেখাশোনা  করে  বিয়ের  বর্ণনা  দিয়েছিলেন ,     নববিবাহিত    দম্পতিদের মধ্যে  প্রথম  রাতে   বেড়াল  মারার    চেষ্টা । আমার  মনে  হয়  প্রীতমের জ্যাঠু   বা    দাদা  যে  প্রজন্মের সেখানে   ফুলশয্যার  রাতেই   বিবাহিতা  স্ত্রীর    যোনীদ্বার   ভাঙতে  সক্ষম  হয়েছিলেন ।   প্রীতমকে  আগের  প্রজন্মের  তুলনায়  অনেকটাই  সাহস  করতে হচ্ছে ।  কথা হচ্ছে    সে  এগিয়ে  আসতে  পেরেছে  ?

তানিয়ার  বিয়ের  পরবর্তী  তিনমাস , মাছ  -মাংস  ছাড়াই  কাটল ! অর্থাৎ  বিছানার  এক পাশে  সে  ,  উল্টো  দিকে   বারমুডা প্যান্ট  আর খালি  গায়ে   প্রীতম  শুয়ে  রয়েছে ।   রাতে   তানিয়ার    ট্রান্সপারেন্ট   বা  অতি স্বচ্ছ  নাইটির  ভিতরে  অপেক্ষারত  দুটো  স্তন ,  উত্তেজনায়  ছুঁচালো  হয়ে ওঠা  বৃন্ত  ,  এই  সব  কিছু  দেখে  —   প্রীতম  হস্তমৌথুন  করে   ফেলে । তার  কাছে    তানিয়ার  যোনীদ্বারে  ,  পুরুষাঙ্গ  প্রবেশ  করানো  থেকে  বেশী   নিরাপদ   হস্ত চালনা    করে ,   যৌন তৃপ্তি নেওয়া ।  এই সব  কিছু  টের  পায়  রুচিশিলা   তিরিশ ছুঁয়ে  যাওয়া  মেয়েটি ।   সোনারপুরের  একটি কলেজে   দর্শন  পড়িয়ে   যে  মেয়ে  রাগী মুখে  থাকে ,  যে  মেয়ে  আদৌ প্রেমে  আগ্রহী নয় ,  যে  মেয়ে  পর্ণগ্রাফিকে  জঞ্জাল  মনে  করে  ;  সেই  মেয়ে  রাতে   , বিছানায় ,   প্রীতমের  পাশে  —  এক  দেহ  আকাঙ্খা    নিয়ে  অপেক্ষায়   কাটিয়েছে  ;   চণ্ডালিকা   যেন   নিজের  হাতে  জল  পান  করিয়ে    তৃপ্তি   পেতে  চায় ,  আনন্দকে  সবটুকু উজাড়  করে  দিতে  প্রস্তুত  , জাত –  বর্ণ  সব  কিছু  আজ  দূরে   ; রবীন্দ্রনাথের    সৃষ্টির  মতনই   সে   অসীম  হতে  প্রস্তুত ।

প্রীতম  তিনমাসেও  সেই  কামনা  শুষে  নিতে  পারল  না ! কেন  ? এই  কেন ,  যেমন – তেমন  কেন  নয়   ।  ডিজিট্যালের    ভারতে ,  সুলভ  আন্তর্জালে  অনেক  সহজে  নারীর  দেহের  সাথে  পরিচয়  ঘটছে  ভারতীয়  পুরুষদের ।  প্রীতমের  মতনই একটা জেনারেশন  আছে , যারা  এত  কিছুতেও  সহজ  হতে  পারে না  । এটা কোন   বিস্ময়কর ঘটনা  নয় ,  খুব সাধারণ অথচ  অমোঘ   পরিণতি ।

সব সময়  নিজেকে  ভুলে  গেলেও , রাতে  শোবার  সময় , তানিয়ার  ফর্সা  নরম  দেহে  যখন   বডি লোশনের    প্রলেপ   পড়ে , নাইটির  ভিতরে  আটকে  থাকা  দেহে যখন  জোয়ার  আসে , সে  চাইছে –   প্রীতম   তাকে  নির্লজ্জের    আর  নির্দয়  ভাবে  লুঠ  করুক ।   এমন  ভাবে  তাকে  লণ্ডভণ্ড  করে  দিক ,  রাতের  পরিপাটী বিছানা  যেমন  সকালে     অগোছালো  হয়ে ওঠে  ।  সে  নিজে  এইসব  কিছু  বলতে পারেনা  ,  মুখে  যতই  শক্ত কথা  বলুক ,  চোখের ভাষাও প্রীতমকে শিখতে  হবে  ।  এই  পরিশ্রমহীন  বিবাহ পরবর্তী  তিনমাস  , তানিয়ার  জীবনের  এমন  ক্ষতি , যা অপূরণীয়  ।  এইসব  কিছুর  জন্য   মেয়েটি  নিজেকে  প্রতারিত  ভাবে  , আর  প্রীতমকে  প্রতারক ।

সকালে  এমনই  চোখে খানিকক্ষণ  চেয়েছিল   তানিয়া ।

প্রীতম  বলল –  আজ  আমি  কলেজে  যাব ? আমরা  একসাথে  ট্রেনে  করে  ফিরতে  পারি …

তানিয়া  বলল –  এত  কষ্টের  দরকার  আছে  ? আমার জন্য  এত  কষ্ট  করতে  হবে  না , তাছাড়া  আমরা  কয়েকদিনের  জন্য  বাইরে যাব ।   এডুকেশনালট্যুর  আছে  ।  মুর্শিদাবাদ ।  সেটা  নিয়ে  আজ  আলোচনা  আছে ,  ছুটির পর ।

তানিয়া  যেতে  চেয়েছিল ,  যায়নি  ;  কেননা   এই  না  যাওয়াটাই  — সে  ঠিক  মনে  করেছে । মানুষ  এমনই  অনেকসময়  মনের  নয়  নিজের  অভিমান  ভরা অপমানের  কথা  শোনে  ।

 

প্রীতম  মাথা   নেড়ে বলল  – আমার  ওইদিকেই  আজ  যেতে হত ।  ঠিকাছে ।

 

ঠিকাছে  মুখে  বললেও ,  ভিতরে  কিছুই ঠিক  ছিল না, ঠিক  থাকবার  কথাও  নয় , সব কিছু  লণ্ডভণ্ড  হয়ে  গিয়েছিল ।   সব মানুষই  নিজের  জীবনের  একেকটা স্তরে , একেক  রকমের  দায়িত্ব  নেয় ।  নিতে  হয় ,  জীবনে  দায়িত্ব  ছাড়া  আর  কিছুই  নেওয়ার  নেই , প্রীতম  ফুলশয্যার  রাত  থেকে  আজ  এই  মুহূর্ত  অব্দি —  নিজের দায়িত্ব  পালনে  সক্ষম  হয়নি । আগে  বুঝতে  না  পারলেও , এখন  বুঝতে  পারছে  তার  তানিয়ার  প্রতি  যেমন  ব্যবহার  করা  উচিত  ছিল  , যেমন ব্যবহার  করলে  সে  মেয়েটির  চোখে  সম্মান  পেতে  পারত ,  —  কিছুই  করতে  পারেনি ।  তার  স্যালারি এত  নয়  যা  চমকে  দিতে  পারে  , তানিয়া  নিজেও   উপার্জন  করে  আর  স্বতন্ত্র ,   তাই  যে  জিনিসটার জন্য   প্রীতমের  সহযোগিতা   চেয়েছিল ;  ফিরিয়ে  দিয়েছে বা  দিতে  বাধ্য  হল !

প্রীতম  দেখল ,  মাঝারি  উচ্চতার  , ফর্সা ,  খোলা  চুল  কোমর অব্দি   ছড়িয়ে  ,     সালোয়ার কামিজ  পড়ে —  নিজের  ক্ষোভ  চেপে রেখে ,  সিঁড়ি  দিয়ে  নেমে  যাচ্ছে  ।   না  , প্রীতম  তিনমাসে  এই  প্রথম  টের পাচ্ছে , বাইরে  ভারতীয়  সমাজ  যতই  যৌনতা  নিয়ে  ভণ্ডামি  করুক  ,  আসলে  যৌনতাই  এই  ভণ্ডামির কারণ !  এই  জিনিসটা  খুব  সহজ , আবার  অনেকের  কাছে     সহজ  হয়েও   দুর্লভ  । যৌনতা  সাংসারিক  জীবনে  একটা  দুর্ভেদ্য  কবচ ।

কিছু  একটা  করতেই  হবে  ।  এমনিতে  সময়  জলের  মতন  ঢালু  জায়গা  দিয়ে  , একই  দিকে   বয়ে চলছে ।              তিনমাস ! অনেক  সময় ।  ছিঃ   , ভবিষ্যতে  এরজন্য  মুখ  দেখাতে  পারবে  না  ।

 

অফিসে  প্রীতমের  কাছের  লোক   বলতে –  রজ্জিত কাপুর ।  পাঞ্জাবের  বাসিন্দা ।  পাঞ্জাবি ।   ভবানীপুরে   নিজের  ফ্ল্যাট  রয়েছে ।  দুই মেয়ে  আর  বউ ।  সিনিয়ার ।

অফিস  থেকে  বেরিয়ে , দুজনেই  একটা  শীততাপ নিয়ন্ত্রিত  রেস্টুরেন্টে  বসে  রয়েছে ,   মুখোমুখি । রজ্জিত  বললেন

-ভায়া , এত  চিন্তা  করছিস  কেন  ?  আমার   বেগমকেও  আমি   প্রথম –প্রথম  ভয় পেতাম । একদিন  সাপ  সুড়ঙ্গে  ঢুকে  গেল  ! ব্যাস ,  সদগুরুর  কৃপায়  মোক্ষ  লাভ  ।

-আমি সেই  সুড়ঙ্গটাই  চাইছি ।

-দেখ  সেখানে  পৌঁছাতে  হলে , ভায়া  পরিশ্রম তোকেই  করতে  হবে ।  মরদ  তুই ।  সাহস  দেখা  ।

-দাদা ,  সাহস  করছি , যেই  তানিয়ার   সামনে  যাচ্ছি , মানে এটা  ঠিক  আমাদের  চাওয়া  একটাই , তবুও  যেন  আমি  ঠিক  সহজ হতে  পাচ্ছি না  !

-তাহলে  সহজটা  কখন  হবি  ?  পাশের  বাড়ির  কেউ  মৌচাকে   ঢিল  মারলে ?  বলদ , মেয়াটার  চোখে  তুই  একটা অপদার্থ ।  মেয়েরা  যতই  লজ্জা  লজ্জা  ভাব  করুক ।  তোর  মতন  ক্যাবলা  মাল  কে  পছন্দ করবে  না । তানিয়া  ভদ্র  বলে  কিছু  বলেনি । দেখ সাহস করে  মাঠে  নেমেই  পর ।

– বাদ দাও  । আমার  দিকটা  বুঝতে  চাইছ  না  । আমি সারাজীবনে  মেয়েদের  হাত  ধরলাম  না।  এই  বয়েসে  এসে , মানে  ইচ্ছা  থাকলেও ।

-গান্ডু উপায় হবেই ।  তুই  ওকে  পিছন থেকে  জড়িয়ে  ধরেছিস ?

-না  ।  একবার  ঘর ফাঁকা  ছিল , লাগোয়া    পায়খানা  – বাথরুম ।  আমি   রুমেই  ছিলাম । দেখি  ,  বাথরুমের  দরজা  আলগা ।  মুতব বলে  দরজা  খুলতেই  দেখি  ,  তানিয়া  সায়াটাকে  বুকের  উপর  নিয়ে  বেঁধে  রেখেছে । চুল  খোলা !

-সদগুরু !!! তারপর ?

-আমি  দেখলাম  , তানিয়াও  দেখছে ।  আমি  কিছুক্ষণ  পর  বেরিয়ে  এলাম ।

-আর কিছু  করলি না !!

-অনেকক্ষণ  দাঁড়িয়ে  ছিল ,  তাকে  নামানোর জন্য   পায়চারি  করছিলাম ।

-তুই  শালা  সংসার  ত্যাগ  করতে চাস  ?

-কেন  ?

-বিবাহিতা  বৌ  কী  চাইছে  বুঝতে  পারছিস  না !!

প্রীতম  মাথা  নামিয়ে  , দু’টো  চোখের  উপর  হাত  রেখে কেঁদে  ফেলল !

-শালা , সব  শেষ  হয়ে  গেল ।  আমিও  চাই  ,  খুব  চাই  । উফ …  কিছু  একটা  স্বাভাবিক হতে  দিচ্ছে না ।

রজ্জত  কিছুক্ষণ  চুপ  করে  থাকলেন । তারপর  কানের  কাছে  মুখ  নিয়ে  গিয়ে  বললেন –  একটা জিনিস  কিনতে  হবে । আজ  রাতেই কাজ  হবে …

 

রাতের  দিকে  দ্বোতলার   নিজের  ঘরে  , রাত   এগারোটা ।

তানিয়া  নাইটগাউন    খুলে , বিছানার উপর বুক রেখে ,  কলেজের খাতা দেখছে । পিছনেই  দাঁড়িয়ে  প্রীতম । খাওয়ার টেবিলে   কথাই  হয়নি ।  তানিয়া  নিজে  থেকেই এড়িয়ে  গিয়েছে ,   একবার  তাকিয়ে  আবার  খাবার  প্লেটে  রুটির  দিকে  চোখ  দিয়েছে , আজ  শুক্রবার  ,  নিরামিষ  ।   প্রীতম  দুধের গ্লাসটা  এগিয়ে  দিতেই  , যেন তানিয়ার  চোখ  দুটো  দেখেই   পিছিয়ে  গিয়েছিল !  বেশী  না  ঘাঁটানই  ভালো ।

প্রীতম  বলল – তুমি  শোবে  না  ?

উত্তর  নেই  । ঘরে   একটা  অদ্ভুত  নিস্তব্ধতা ।   সাদা  বাল্বের আলোয়   মনেই হয়না  এত রাত  !  অবশ্য  বাঘাযতীনের  মোড়ে  অনেক  রাত  অব্দি  গাড়ি  ছোটাছুটি  করে ।  মনেই  হয়না রাত ।   এখানে  রাত  খুব ধিরে ধীরে আসে  আর কোন  কিছু না  বলেই  , ভোরকে  ডেকে  আনে !

একটা  মানুষ , প্রীতম  দাঁড়িয়ে ; তানিয়া  এই  ব্যাপারটাকে  আমল  না দিয়ে  খাতা  দেখছে । আসলে  আমল  দিয়েই , পাত্তা  না দেওয়ার  অভিনয়  করছে ,  ছেলেটা  খালি গায়ে   বারমুডা প্যান্ট  পড়ে —  মেয়েটার  পীঠ  থেকে  কোমর পর্যন্ত  তৃষ্ণার্ত   চোখে চষে  ফেলল !

বলল – ইয়ে শুনছ ?

তানিয়া  আর  অপেক্ষায় রাজী নয়  , সে  বুঝেছে  ভীতু    প্রীতম  সুর সুর করে  শুয়ে  পড়বে ।  মনের   ক্ষোভ  এই  সময় ঝেড়ে  দাও । বলল –  তোমার  বুদ্ধিশুদ্ধি আর  কবে  হবে  ?  একটু কমন  সেন্স   ব্যবহার  করতে পারছনা ! এই  খাতা  গুলো  খুব   গুরুত্বপূর্ণ ;  যদি  গোলমাল হয়ে  যায়   স্টুডেন্টদের  ক্ষতি  হবে  ।  আমার  আলো জ্বালানোয়  সমস্যা  হলে , যাও  বারান্দায়  গিয়ে  শুয়ে  পড়ো ।

-মানে ?

-আচ্ছা , থাক  থাক  তুমি আমায়  বিয়ে  করেছো ।  তুমি  কেন আমি  যাচ্ছি …

কথা  গুলো তানিয়ার  মুখে  মানায়  না  , এই  মুহূর্তে মানে  এগারোটা  বেজে   কুড়ি –  রাত  হচ্ছে ,  শুনতে  মানিয়ে  গেল । প্রীতমের  চোখে  জল  দেখে  ,  মেয়েটার  বেশ  আনন্দ হচ্ছে ।  এই  আনন্দ  অন্যের  যন্ত্রণার  নয় , বরং  নিজের  ভিতরটা ক্ষতবিক্ষত  হয়ে গিয়েছে , তারই  প্রলেপের  পথ  আবিষ্কারের ।

প্রীতম  আজ  ,  রজ্জতের  কথা মতন  বিশেষ  উপহার  এনেছিল ।  আলমারির  ভিতর  বাক্সে  রয়েছে ।   সেই  উপহারটা  নিজের  হাতে  দেবে  ভেবে ছিল ।   এমন  ব্যবহারে  ,  প্রীতম  নিজেকে  খুব  অপমানিত   মনে  করছে ।  ঠাণ্ডা  মাথার   আজ  নিজের  অজান্তেই  নিজেকে  দোষারোপ না  করে ,  তানিয়াকে   অহংকারী  ভেবে  নিল ! মনে –মনে  বলল – সব  দোষ  আমার  ?  নিজের  কোন  ইচ্ছা  নেই ! অত লজ্জা  কেন  ,   মন  চাইলে  এসে বলও । আমি এত  চেষ্টা  করছি ।

মুখে  কিছু  বলল  না  ।

 

রাতে  তানিয়া  আলো  নিভিয়ে  ,  ঘর  লাগোয়া  বারান্দায়  এসে  দাঁড়িয়েছে  । দ্বোতলা  । এই  বাড়িতে   দ্বোতলায়  প্রীতম থাকে  ।  একতলায়   বাবা  , মা   আর  বোন এক ঘরে । পাশের  ঘরে  দাদা তার  বৌ  আর  দুই  মেয়ে  নিয়ে  থাকে । বারোটার  মধ্যেই  সকলের  ঘরের   আলো নিভে  যায় ।

তানিয়ে  এই  এত  রাত   পর্যন্ত নিজের  বারান্দা  থেকে  – বাইরের  রাস্তা ,  পথ ,  পথের  একপাশে    ত্রিফলার আলো ,  আরেক পাশে   নীল – সাদা  রঙের  পার্কের  দেওয়াল ,   ছোট্ট  মন্দির ,  দেখছে ।  এই  সব  কিছু  ছাড়িয়ে  আরেকটু  দূরে চোখ যেতেই , পাড়ার  মুখে ই  আচমকা  অন্ধকার  যেন পাপোশের  মতন  রয়েছে ! আর  দেখা   যাচ্ছে না  ।  খুব  মন চাইছে  এই  বাড়ি ছেড়ে  চলে   যেতে ।   বর্ধমানে  থাকতে ,  তানিয়া ভাবেওনি  গ্রামের  পরিবেশ  থেকে  তার  বিয়ে  হবে  কলকাতায় ।  এখানে এসে  প্রথম প্রথম  বাড়ির  সকলের সাথে  মিশে  গিয়েছে ।  প্রীতম খুব ভালো । এমন পুরুষ খুব  কম  আছে ।  কথা  হচ্ছে ,  অনেক  সময়  তানিয়ার  অবস্থায়  পড়ে অনেক মেয়েই চাইবে — পুরুষের পুরুষত্ব  জাগরিত  হোক ।  প্রীতম  তার  কথা  শুনতে  পাচ্ছে  ? মনে  হয় না  ।  এই  না  শুনতে  পারা  কথাই  হয়ত  তাদের    সুখ হীনতার  কারণ ! আজ মাসীর   বাড়ি  যায়নি ।  কিচ্ছু ভালো লাগছেনা  । রাতের  আকাশে  তাকিয়ে  , তানিয়ার  কাঁদতে ইচ্ছা  করছে । এই  মানুষটাকে  সে  হয়ত ভালবেসেছে , নাহলে তখন এত শক্ত  কথা  বলেও  কেন  নিজের  মনে এমন  একটা   ব্যাথা  অনুভব হচ্ছিল !  সে  নিজেও  জানেনা  এই  গল্পের  শেষটা …

                                        

স্টাফরুমে  বসে ,  নিবেদিতাদির  সাথে  তানিয়া  শিক্ষামূলক  ভ্রমণ  নিয়ে  আলোচনা করছিল ।  তাদের  কয়েকদিন বাদেই  মুর্শিদাবাদ  যাওয়ার  আছে ।   সবাই  চাইছে   দায়িত্ব  তানিয়া  নিক ।  পৌষালিদি  , বছর  তিনের  বড় ,  তানিয়ার সামনেই বলল –  তুমি আমাদের  সাথে  যেতে  পারবে  ?

স্টাফ রুমে   বসে আছে  চারজন ।  এখন  টিফিন  চলছে ।  নিবেদিতার  পাশে  পৌষালি , উল্টো  দিকে  তানিয়া  , ডানদিকে  অর্পিতা ।  অর্পিতা  বলল – না  , তানি দি  না  গেলে  জমবে না  ।

পৌষালি দি হাসতে – হাসতে  বললেন –  প্রীতম এখন  ওকে  রাতছাড়া  করতে চাইবে না  । আমরা  এখন  নয় ।   সবে তো  চারমাস হয়নি , এই  মধু  এক বছর অব্দি  থাকবে  ।

তানিয়ার  মাথা  খুব গরম হয়ে  গেল ,  সে  জানে এমনটা তাকে  শুনিয়ে  বলছে ।  পৌষালি  এতটুকু  টের পায়  , মেয়ে  হিসেবে  সে  বুঝতে পারে —  তানিয়ার   বুকে  যে  মাটির কলসিতে  ক্ষোভ  জমে   রয়েছে  – তার   পরিমাণ । মাটির কলসি  সবসময়  জলের  উত্তম  , নির্বিবাদী বাহক ;  উত্তপ্ত  তরলকেও সে   শীতল  রূপে    পরিবেশন করে ।

তানিয়া   বলল – আমি  যাচ্ছি ।

নিবেদিতা , হাতের  তালু দিয়ে  তানিয়ার   ডানহাত  ছুঁয়ে  চোখের   ইশারা  করল ।

 

কলেজ  থেকে  ,  নিবেদিতাদির  গাড়িতেই   তানিয়া  ধর্মতলা   এসেছে ।  গাড়িটা  পার্ক করে  ,   দু’জনে  বুটিকের   দোকানে    ঢুকেছে ।

-তুই  একটা  পছন্দ কর ।

তানিয়া  মাথা  নামিয়ে  বলল ,  – তুমি নাও । আমার  ইচ্ছা  নেই ।

নিবেদিতা  বললেন  –  কেন  রে  !  এত  বুটিকের  কাজ   একটাও  মন  ভরছে না  ?

মাথা  নেড়ে  বলল – তা  নয়  দিদি ।  আমার   মনের  ভিতর খুব  কষ্ট ।

-আমি  বুঝি । আগের  দিন রাতে    তুই যা  করেছিস , আমি  হলে  আরও  বেশী  কিছু   করতাম ।  তানিয়া , ওটা  সব নয় ঠিকই । তবে  ওটার  জন্যই   ঘরে – ঘরে  এত  সমস্যা । আমরা  মেয়েরা  এখনো লজ্জায়  কিছু  বলতে পারিনা ।  তার  চেয়ে  পালিয়ে  কিছু  একটা  করে , সমাজের  বদনাম  নিলাম ।  এভাবে  চলতে পারেনা ।  তুই  স্বনির্ভর  নিজের  পাওনা  নিজেই আদায়  কর ।  ওর কোন  যৌন  সমস্যা নেই  তো ?

-মানে  ?

-আরে আয়ুষ্মান  আর  ভূমিকার  নতুন  সিনেমাটা  দেখিসনি ?

-কন্তা –কোনটা বলতো ?

-আয়ুষ্মানের   হওয়ার  আগেই  পড়ে  যেত ! এটা খুব  সিরিয়াস ।

-না  ।  প্রীতমের  এই  সমস্যা  নেই ।

-কেমন  ভাবে  বুঝলি  ?

-একদিন  রাতে  আমি  ঘুম  থেকে  উঠে  দেখি , বাথরুমের  দরজা  খোলা ।  ভিতরের  আলো  জ্বলছে ।  ফাঁক  দিয়ে  দেখি… প্রীতম …

-প্রীতম  কী ?

-ওই  সব  করছে । মানে  ফেলছে…

ওরা  খুব  আস্তেই  কথা বলছিল ।  দোকানে  আজ  লোকজন  কম  আছে  ।  নিবেদিতারা  এমন  জায়গায় দাঁড়িয়ে   রয়েছে ,  খুব একটা  কথা  কেউ  শুনতে  পাবে   না  ।  দোকানের  মালিক এক  গুজরাটি  মহিলা ।  নিবেদিতার  পরিচিতা ।  অনেক  দিনের   সম্পর্ক ।  নিবেদিতার  কাছে  এসে  বললেন

-নতুন  একটা  ব্রা   এসেছে । দেখবে  ?

-দেখাও ।

পাশেই  পলিথিনের  প্যাকেট  থেকে  টেনে  নিয়ে ,  নিবেদিতার  সামনে  রাখলেন  । দেখে   তানিয়া  চমকে উঠেছে ! নিবেদিতা  হেসে  বললেন –  দেখি  ,  ওর  ফিডব্যাক ।   … আসছি ।

 

গাড়ি  ছুটে  চলেছে  পার্কস্টীট   হয়ে ।  সার্দান এভিনিউ   দিয়ে  ।

তানিয়া  বলল –  দিদি  তুমি  মেয়ের  জন্য  কিনলে  ?

নিবেদিতা   তাকিয়ে  বললেন – গাড়ি  ড্রাইভ করে  মেয়ের  জন্য  কেন  কিনতে  আসব  ? ওটা  নিজের  জন্য  ।

-মানে  !

-বয়স  হয়ে  গেলেই ,  শরীর  ছেড়ে  দিলেই   বুঝি  সব  ইচ্ছা  শেষ  হয়ে  যায় !  শোন ,    ভারতীয় পুরুষ  মানুষরা   নিজেদের  ঘরের  বউকেও  নতুন  ভাবে  দেখতে চায় ।  আমায়  আটত্রিশ  যদি বত্রিশ  হয় ক্ষতি  কী ?  তুই  একবার  ট্রাই কর ।   দেখ  এমন ভাবে চুপ  থেকে  লাভ  নেই ।  সম্পর্ক  টিকিয়ে রাখলি  অথচ কাজে  লাগল  না  !  তেমন  ভাবে  থেকে  লাভ  নেই ।  এগিয়ে  নিজের  পাওনা  নিজেই  বুঝে  নে…

 

তানিয়ার  বাড়ি  ফিরতে রাত  ন’টা  ।  গা  ধুয়ে । আলমারি খুলতেই  প্যাকেট  দেখতে  পেল ! সকালে অবশ্য    প্রীতম  বলেছিল উপহারের  কথা ।  পাত্তা  দেয় নি ।  এখন  তানিয়া  প্যাকেটটা খুলল ।

 

অনেক  রাতে  ,  প্রায়  বারোটা , বিধ্বস্থ  হয়ে    প্রীতম  ঘরে  ঢুকে দেখল  অন্ধকার ।  তানিয়া  শুয়ে  পড়েছে ।  উপহারটা  দেখেনি ।   নাহলে কিছু  অন্তত  বলত ।   বাথরুমে  গিয়ে   মুখ  ধুয়ে ,   গেঞ্জি  আর  বারমুডা প্যান্ট   পড়ে   বিছানায়  এসে  বসতেই  , আচমকা  দাঁড়িয়ে  দেখল – ঘরের   রাতের জন্য  অল্প  শক্তির  বাল্ব  জ্বলতেই ,  বিছানার  উপর যেন  এক  মডেলের  কার্টআউট   ছড়িয়ে  রয়েছে  ! না  ভুল ,  এতো  তানিয়া  ,  নাইট গাউন   খুলে দু ‘হাত ছড়িয়ে  ডাকছে । হ্যাঁ , ফর্সা  দেহে  ,  প্রীতমের   দেওয়া  সেই   বক্ষবন্ধনীটা  পড়েছে !  মানে  তানিয়া অপেক্ষা  করছে ।

প্রীতম  দু ‘চোখ  দিয়ে  দেখছে –  গোলাপি  ঠোঁট ,  গলা  ,  বক্ষবন্ধনী ,  নাভি , তারপর… !!  এমন  ভাবে  এর আগে  তানিয়া  ধরা  দেয়নি ।

 

-তুমি ?

প্রীতমের  কথা শুনে ,  তানিয়া  বলল

-এই  জিনিসটা  কিনে  এনেছও ? আমি  আলমারি  খুলতেই  পেলাম  ।  কেমন  লাগছে  ?

-খুশি ?

-নিবেদিতাদি  নিজের  জন্য  কিনেছিল  এমনই   ব্রা  ।   আমার  মনে ইচ্ছা  ছিল ।  মুখে  বলতে পারিনি ।

-মানে ?

-কী মানে  ?

-আরে  তানি ,   নিবেদিতাদি  নিজের  জন্য  কিনতে  গেলেন  কেন  ?  এই  বয়সে ওনাকে  মানাবে  না  ।

-মানে  ?

-না  । ইয়ে …

-তোমার  লজ্জা  করছে  না  ,  বিয়ের পর  তিনমাস  বউকে  আদর  করতে ভয় পাও ।  ভীতু। …

-এই । এই । ভীতু  নই  ভদ্র ।

প্রীতমকে  দু’হাত  দিয়ে  টেনে  -হিচড়ে  বিছানায়    শুইয়ে  দিল ।

তানিয়া    নরম   লিপস্টিকহীন ঠোঁট  দিয়ে   চেপে  ধরল  আনাড়ি  প্রীতমের  ঠোঁট  । প্রীতম  দু’হাত  দিয়ে   তানিয়ার  বুকের   বক্ষবন্ধনীর   নরম  ফোমের  অংশ  দু’টো  চাপছে  ।   তানিয়া  নিজেই  খুলে  দিয়েছে ।   জানালার  পাল্লা  গুলো  আগেই  বন্ধ  ছিল । এখন  শুধু  হাল্কা  আলোর  বাল্বটি  নিভিয়ে  গেল  ।

 

আর  নয় , আমরাও  এখন  ওদের   একান্তে  রাত্রিযাপন  করতে  দেব । ওঁরা   সাপ আর  সুড়ঙ্গ  খুঁজতে থাকুক… ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *