কে !

অনিরুদ্ধ ঘোষাল

তারিখটা ঠিক  মনে পড়ছেনা তবে মনে হয় মাধ্যমিক পরীক্ষার আর দেড় মাস বাকি। সকাল সাড়ে নটা নাগাদ আমি, বাপ্পা, সঞ্জীব, শান্তনু, সবাই মিলে কথা বলছি, হঠাৎ করে সঞ্জীব প্রশ্ন করে উঠলো, তোরা কেউ ভুত দেখেছিস? সবাই বলল না দেখিনি।আমি ওকে জিজ্ঞাসা করি তুই এই ভুতের ব্যাপারটা কোথায় পেলি? সঞ্জীব উত্তর দিতে না দিতেই ঠাকুনের ডাক, ভাই ভাই… আমি বললাম যাচ্ছি। তারপর চলে যাই।বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করি কী হল ডাকছো কেন? ঠাকুন বললো তোর বুবি ফোন করেছিল। আমি বললাম কী বলছিল? ঠাকুন বললো বুবির ঘর যেতে হবে ধর্মরাজের প্রসাদ খেতে। আমি বললাম ঠিক আছে চলো।তারপর বেলা এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। বুবির বাড়ি পইনে বারোটা নাগাদ ঢুকে যাই।হঠাৎই স্কুলের স্পোর্টস এর কথা মনে পড়ে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম মাঠের দিকে স্পোর্টের টিফিন আনতে,যদিও কোন স্পোর্টে নাম দিইনি।
দুটো নাগাদ বুবির বাড়ি ফিরে যাই। বুবি খিচুড়ি খেতে বলে,আমি যদিও বা খাইনি শুধু পায়েস খেয়েই দুপুরের ঘুম সারি।

বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ঘুম ভাঙলো আমার ঠাকুন বলে,কিরে বাড়ি যাবিনা? আমি বললাম, হ্যাঁ চলো চলো। তারপর বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়ি পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই মায়ের কাছে খবর পাই ভাগ্যাবতী মাল অর্থাৎ যাকে আমি ঠাকুমা বলে ডাকতাম সে গলায় দড়ি নিয়ে মারা গেছে। আমি এই খবর শুনে  অবাক,যার সাথে এই সকালবেলা দেখা হল সে আত্মহত্যা করবে কেনো? তাকে তো সকালবেলা বেশ খুশিখুশি মনে দেখা গিয়েছিল।মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন জাগতে থাকে, এইসব কথা ভাবতে ভাবতে সেই দিনটাই পেরিেয়গেল।
দেখতে দেখতে সকাল নেমে এলো আবার সেই প্রত্যেক দিনের মতো টিউশন শুরু, বেরিেয় পড়লাম বাবলু কাকার টিউশন এর দিকে,কাকার কাছে পৌঁছেই কাকাকে প্রশ্ন করি, কাকা কাল তুমি বাড়িতে ছিলে? কাকা বললো হ্যাঁ ছিলাম,কাকার উত্তর দিতে না দিতেই আমি প্রশ্ন করি, তুমি জান কাকা কাল ভাগি ঠাকুমা মারা গেছে?কাকা উত্তর দেয়,হ্যাঁ জানি। আবার প্রশ্ন করি তুমি ডেড বডিটা দেখেছিলে?যে উত্তরটা আসা করেছিলাম সেটাই বললো কাকা, হ্যাঁ দেখেছি। আমি বডিটা সম্পর্কে জানতে চাই এবং কাকাকে বডিটার ব্যপারে বলতে বলি। কাকা প্রথমে বলতে না চাইলেও পরে বলে, একটা নাইলন দড়ি একটা হ্যলানো কাজু বাদাম গাছের ডালে ঝুিলয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আটকানো, কিন্তুু শরীরটা পুরোপুরি ভাবে ঝোলেনি, মাটিতে পা গুলো স্ট্রেচিং করার মত ছড়িয়ে আছে, পা গুলো ধুলো মাখা। কাকার কথা শুনে কেমন একটা খটকা লাগলো মাটিতে পা রেখে কেও কী আদৌ মরতে পারে? এটা কী? আত্মহত্যা, নাকি মার্ডার? কাকা এবার বকতে শুরু করে, নে নে অনেক হয়েছে এবার নিজের কাজ কর, সব কাজ শেষ করে বািড় ফিরলাম।
বাড়ি ফিরে সঞ্জীবকে ডেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাইরের দিকে।যখন প্রায় অর্ধেক রাস্তা অতিক্রম করেছি তখন সঞ্জীব বলে ওঠে, আমরা কোথায় যাচ্ছি?আমি বললাম,চল চল পরে বুঝতে পারবি।এরপর আসতে আসতে জঙ্গলে ঢুকতে যাচ্ছি আর সঞ্জীবের প্রশ্ন,কোথায় যাচ্ছিস? আমি একপ্রকার রেগেই বলি,বেিশ না বকে চুপচাপ চল।আর কিছুটা হেটেই পৌঁছে গেলাম সেই জায়গায়, কিছুক্ষন ঘোরার পর একটা খড় খড় শব্দ। আমি,সঞ্জীব দুজনেই চমকে যাই একসঙ্গে বলে উঠি কে? তখনও শব্দ বন্ধ হয়নি বরং শব্দ আরও বিকট হয়ে আসে।আমরা চিৎকার করে উঠি, সেখান থেকে এক নিশ্বাসে দৌড়ে সোজা জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে এসে হাঁপাতে থাকি,তবুও মন  সন্দেহের দোলায় ঝুলতে থাকে, এ কী আদৌ ভুত না কী কল্পনা মাত্র???

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *