ইগো

 রাণা চ্যাটার্জী 

“যেদিন সত্যি কারের মিস করবি আমায় ,সেদিন ডাকবি ,ঠিক হাজির হয়ে যাবো ‘কথাগুলো বলেই এক দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বাইকে স্টার্ট দিল অয়ন ।

ঘটনার আকশ্মিকতায় মোবাইল টা হাত থেকে খসে পড়ল লিপির । এত্তো যে রাগের সাক্ষী হবে ভাবেনি সে! ছোটো থেকে এক সাথে বড়ো হয়ে ওঠা দুটো পরিবার যত সময় গেছে কেমন যেনো লতায় পাতায় জড়িয়ে গেছে ।

চক্রবর্তী আর রায় এই দুটো বাড়ি পাশাপাশি হবার পর থেকেই অদ্ভুত এক হৃদ্যতা ।দুই বাড়ির দুই গিন্নি নিজেদের মধ্যে কেবল  সই পাতিয়েই ক্ষান্ত হয়নি পিঠাপিঠি দুই ছেলেমেয়ে অয়ন ,আর লিপির মনেও স্বপ্নের বীজ পুঁতে দিয়েছে ।

লিপি কোনোদিনই অয়ন দা ছাড়া কিছু ভাবেও নি ।কিন্তু লিপি ,কলেজে ভর্তি হবার পর থেকেই অয়ন কেমন যেনো একটু রাগি হয়ে গেছে ! এতদিন বাড়ির পাশের স্কুলে পড়তো যখন  ‘লিপি ,নিজের মোবাইলের দোকান থেকে পর্যবেক্ষণ করতো অয়ন ।কিন্তু এখন যেনো তার হাতের গ্রিপ টা আলগা হয়ে যাচ্ছে ! ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে বিষয় টা অনুভব করে অনেক বার বুঝিয়েছে লিপি ,”অয়ন দা, তুমি কি তোমার ভালোবাসা কে ভরসা করোনা ,আর যাই করো এভাবে ভুল বুঝে অপমান করো না !”

তবু অয়ন বুঝলে তো !লিপি কে আজকাল অপূর্ব লাগে ,যখন সে লং ফ্রক পরে দুদিকে বিনুনী ঝুলিয়ে  কলেজ যায়,একটা যেনো রঙ্গিন প্রজাপতি দেখে অয়ন ।একবার অসহ্য হয়ে কলেজে না পড়ার বিধেন দিয়েছিল ,পরে ভুল বলছে সেটা বুঝেই অপ্রস্তুত হয়ে পালটি খায়।

লিপি অবাক হয় ,ছেলে ,বাবা ,লাভার ,এই ভিন্ন ভিন্ন রূপে  কেমন যেনো পুরুষ গুলো শুধু নিয়ন্ত্রণ করতে চায় !অবাক লাগে যা কিছু ভালো তা নিজের করায়ত্ত করার ছাড়পত্র পেয়েও বৃথা সন্দেহ করে ।তবে কি অয়ন নিজের মধ্যেই কোথাও হীনমন্যতায় ভুগছে ! তার ছোট্ট ব্রেন  এর কোনো ব্যাখ্যা সে দিতে পারে না।

একদিন নিজেই ঠিক করে ,অয়ন কে আবার পড়তে উত্সাহিত করবে ।এইচ এস দিয়ে কিছুতেই আর পড়বো না জেদে দোকান খোলে সে ।এখন লিপি বেশি পড়ছে ,এরপর এমএ ,বিএড পড়েই যাবে ,তখন তো আরো হতাশা আসবে অয়নের ! এই সব কাল, সারারাত ভেবেই অয়ন কে ডেকে বলার প্লান ছিলো ,কিন্তু হঠাৎ স্যার টিউশনের সময় দেওয়ায় লিপি থাকতে পারেনি বলে এত্তো রাগ বাবু অয়নের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *