উড়ন্ত ফানুস

অমল বসু

খোলা জানালার বাতাসে অজস্র জলকণা
ভিজিয়ে দিচ্ছে অন্ধকারের অচেনা শরীর 

ঘরের পর্দা পাল তুলে দিয়ে মুক্তি চাইছে

বিছানার চাদর ভেজা- চোখের জল, নাকি রক্ত?

দেহে কিছু বোধ জেগে আছে

অভিজ্ঞ আঙুল চিনতে চাইছে বর্তমান

ভবিষ্যতের আর্তনাদে গড়ায় রক্তমাখা কান্না

সমান্তরাল অবস্থানেও রচিত হয় বিচ্ছেদ

 
আশ্রয়হীন উথাল পাতাল ভেসে পড়া ঢেউ 

মেঘ পার হয়ে মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে

অবয়বহীন অবস্থান-হীন অনুভূতিহীন

উড়ানের সুখ স্থিতি খোঁজে দুধনদীর প্রাচীন ঘাটে

নবজন্মের কান্না মেঘ থেকে মেঘে

 
কার্তিকের আকাশে উড়ন্ত ফানুস

আলোর বিন্দু ছুঁয়ে থেকে জল এসে ছিল চোখে

অঘ্রাণের শস্য ভরা মাঠ জুড়ে সোনালি শিশির       

বারান্দার সিঁড়ি

অক্ষর-বন্দি হয়ে থাক, সেই সব স্মৃতিরা
যা কখনো কান্নার জন্ম দিয়ে ছিল

আনন্দের উজ্জ্বল কণারা শুকিয়ে গেলে 

           বিছিয়ে দেব সে ঘরের মেঝেতে

অক্ষর ঘর বদলিয়ে অক্ষয় ছায়ার ঠিকানা 

শ্রাবণ মেঘের জলজ দরবারে কান্নার সুখ!

ধুয়ে মুছে সবুজ হৃদয় বাগান

রমণ ক্লান্ত গাছের সারি

আকাশ ছোঁয়া মাঠ জুড়ে রোপণ-উৎসব

মৌসুমি টনিকে দু-পাড় ছুঁয়ে স্বাস্থ্যবতী নদী 

বারান্দার সিঁড়ি বসে বসে ভিজছে

ধুয়ে যাচ্ছে কালের পায়ের ধুলো

উঠোন পার হলে সিঁড়ি আর সিঁড়ি থাকে না

তরলের ধর্মে বিষাদ ভাসিয়ে ঢাল বায় 

খুঁজে নেবে ঠিক স্রোতস্বিনীর লুটনো আঁচল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *