সেলস গার্ল

মিনতি গোস্বামী

ম‍্যাডাম,একটু শুনুন, ক্লাশ তো অফ।টিফিন খেতে খেতেই শুনুন।দেখুন, এগুলো আপনাদের রোজ দরকার।পাতা শ‍্যাম্পু,বাসন মাজার সাবান,ফিনাইল বাজার থেকে কমে পাবেন।লতা ম‍্যাডাম বলে, আরে আমরা এখন টিফিন করবো।কেন তোমরা এসময় এলে?

ম‍্যাডাম, এরপর তো আপনারা ক্লাশে যাবেন।
ডিসটার্ব করবো না।তাই এসময় এসেছি।

কথা বলতে বলতেই একটি মেয়ে প্রোডাক্টগুলো
টেবিলের মধ্যে সাজিয়ে দিয়েছে।ফিনাইল,শ‍্যাম্পু আর সাবান।

বাবলু স‍্যার দিদিমনিদের উদ্দেশ্য বললো, আরে
নিন না, এগুলো তো ঘরে লাগে।
যেহেতু কো-এড স্কুল তাই স‍্যার , ম‍্যাডামরা এক ই স্টাফরুমে রয়েছে।
দুটি মেয়ের মধ্যে একটি মেয়ে ফিসফিস করে ম‍্যাডামদের কাছে গিয়ে প‍্যাডের কথা বললো।
দু চারজন ম‍্যাডাম চুপি চুপি প‍্যাড কিনলো।
মেয়ে দুটি একটি করে কার্ড সবার হাতে দিল।
ম‍্যাডাম, আমাদের নম্বর।ফুরিয়ে গেলেই মিস কল দেবেন।আসছি ম‍্যাম, আবার আসবো।

লতাদির মেজাজ সব সময় তিরিক্ষি থাকে।
মেজাজ চড়িয়ে বলে, যাও,একটু শান্তি দাও।
যত্তোসব, ভালো লাগে না।

জিওগ্ৰাফির পিঙ্কিদি বলে,লতাদি, ওদের সামনে ওরকম বললেন কেন?
ওরা তো চুরি ডাকাতি করে নি।
ওদের প্রত‍্যেকের জীবনে একটা গল্প আছে।
মেয়েগুলো নিজের চেষ্টায় ঘুরে ঘুরে ওগুলো বিক্রি করে কিছু আয় করে, সংসার চালায়।
আমরা কিছু কিনে ওদের দিকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব না?
শুধু বড় বড় ভাষণ দেব?দেশশুদ্ধ বেকারের কথা কপচাবো?
মানুষ কিছুটা মানবিক হলেই কিছুটা সুরাহা হয়।
ওরা ও  এই সমাজের একজন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *