চিঠির ডায়েরি

রুমেলা দাস

কেমন হতো যদি পাড়ে থাকা কাঁকড়ার মতো,উড়ে আসা ঢেউগুলোর হাত থেকে নিজেকে ডুবিয়ে নেওয়া যেত বেশ খানিকটা জল সপসপে বালির তলায়।কেউ কিচ্ছুটি টের পেতোনা।অথচ দিব্বি ঘাড় গুঁজে নিজের সমস্তটুকুকে যাবতীয় আঁচড় থেকে সরানো যেত।আয়নায় খানিক দেখলো চিঠি।দুটো বিন্দু স্পষ্ট।চায় অথচ চায়না-র মনস্তাত্তিক ভেদটা অনেকটা পর্দার আড়ালে।তবুও সেই যে একটা সম্পূর্ণ সাদা বালিকা মন ঘিরে থাকে ওর চারপাশ জুড়ে।সে চায়,নিতান্ত আবদার করেই চায় ভালোবাসা পেতে।আর তাইতো বারে বারে সেই অবহেলার টুকরোগুলোকে আঁচলা ভরে জমা করে।দাগ ধরা স্মৃতি অনায়াস হাতের প্রলেপ লাগায়।মরে গিয়েও আরো একবার বেঁচে ওঠে নতুন করে।হয়তো চিঠি এমনটাই,এমনই।কুঁচকে যাওয়া কাগজ দুহাতে টেনে সোজা করার কি যে মজা- তা শুধু চিঠিই জানে!

চারকোণা ছোট্ট ঘরটায় ও আর ওর ছায়ারা।রাতুল অফিসে চলে যাওয়ার পর,দুপুরের একচিলতে একটু সময়,ওর নিজস্ব সময়।নিজেকে খোঁজার সময়।নিচু হয়ে যাওয়া শিরদাঁড়ার অভিমান ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার সময়।

ছোট্টবেলা থেকে আনমনা,খামখেয়ালি চিঠি।হিসেব নিকেশে কাঁচা।অঙ্ক না কষেই ঘর বেঁধেছে সাদামাটা-র সাথে।কিন্তু তুমুল এক তীক্ষ্ণ নখ ওকে আষ্টেপিষ্টে বাঁধে,বার বার বলে তুমি নারী!তোমার নিজের করে কিচ্ছুটি চাওয়ার নেই,নেই পাওয়ার।আছে সামাজিক নেমপ্লেট।মেয়ে,স্ত্রী,মা,বউমা হয়ে থাকাটুকু।অথচ এসব ভুমিকাতেও চূড়ান্ত রাজনীতি।ছদ্মবেশ।যেখানে সাধারণ রং পাল্টে দানা বাঁধে কতগুলো অজস্র ঘোলাটে।

আর ভাবতে চায়না চিঠি।অলস নির্জনতার ওম্ ওকে জড়ায়।হাত ধরে নিয়ে আসে কবিতার পাশে।বলে দুঃখ কি! আমরা তো আছি! এখনো আমরা ছুঁতে চাই তোমায়।ফুটে ওঠে কতগুলো শুন্যতার কথা-

আদ্যোপান্ত এক গতিপথ,

জন্ম,যৌবন সরলরেখাসম

বয়ে আনে টুকরোদের-

অমলিন সব কুঁচি;

উপচে পড়া দুঃখদের সাথে সন্ধি

মুক্ত বন্ধের ঢাকনায় আটক করে তাদের,

তবুও প্রতিটা গুহামুখেই

লুকিয়ে থাকে আদিম

সেই ধূসর বিকেল গল্প।।

(ক্রমশঃ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *