তুই ও তুমি এর মধ্যে ফারাক 

জ্যোতির্ময় রায় 


 

“কে তুমি নন্দিনী আগে তো দেখিনি …”এই যা মনে ফুল ফুটছে মনে হচ্ছে আমারও । একটা মজার কথা বলি একটা ছেলে একটা মেয়ে …ইয়ে মানে প্রেম । প্রথম প্রথম প্রেম বুঝতেই পারছেন “তুমি ” ছাড়া কোনো কথা নেই ,যেন একদম বিয়ে করা বউ ।না…এটা বলছি না যে বউকে শুধু তুমি বলা হয় “তুই” তো বলতে পারি ।

যাক ওই প্রেম চলছে আরকি ,যেমন চলে প্রথম প্রথম তো তাই রাত জেগে কথা বলা ,ওভার কেয়ারিং (ওটা ওভার কেয়ারিং বলা যায় ) ,দারুন দারুন সব ঢপ ( এর থেকে ভালো কমপ্লিমেন্ট আমার কাছে নেই ,সেটা নিশ্চই কেন বলতে হবে না ,প্রথম প্রথম প্রেম তো বোঝাই যায় )

কিন্তু …..কিন্তু …একদিন  গল্পটা নিশ্চই বুঝতেই পারছেন ।ওই ব্র্যাক আপ – ট্রেকআপ হবে ? আজকাল যা নিত্য দিনেই হয় । তাহলে বলবো একদম ঠিক ….হমম ব্র্যাকআপ এর মতোই বলা যায় ,ভুলবোঝাবুঝি ,দূরত্ব ,প্রাচীর । এই যা “তুই আর তুমি” এর গল্প করতে গিয়ে কোথায় চলে এলাম । যাই হোক ঠিক দুবছর পর সেই “তুমি” এখন “তুই” এ ।পরে আবার আস্তে আস্তে …। তবে প্রেমটা নাকি নেই আগের মতো ছেলেটি বলে ।”তুমি যখন তুই হলো প্রেমটা বেশি হওয়া উচিত তাই না ? কি জানি বা বড় বড় লোকের বড় বড় ব্যাপার “।।

 

যাক এবার আসল কথায় আসি

“তুমি” ও “তুই” দু শব্দই সর্বনাম পদ] সম্বোধিত দ্বিতীয় ব্যক্তি বা মধ্যম পুরুষ ( ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, স্নেহের পাত্র …)

সম্ভবত”তুমি,বা তুই, “যুষ্মদ্ ” শব্দ থেকে উৎপত্তি ।

 

এবার আমরা কিছু প্রিয় মানুষের কাছে শুনে নেব কত ইঞ্চি ,বা ফুট ফারাক “তুই ও তুমির মাঝে ” ?

 

কবি চন্দ্রানী পালের কাছে ”

তুমি হলো কাছের

আর তুই হলো নিজের….

তুমি আর তুই তে যে ফারাক বিশেষ নাই,

অধিক ভালোবাসলে

তুমি তুই হয়ে যায় ”

 

কবি পাপিয়া মজুমদার বললেন “বন্ধুত্বর ক্ষেত্রে তুমি / তুই চলে কিন্তু আপনি ? নৈব নৈব চঃ ,,, তুইটা খুব মিষ্টি আপন মনে হয়  ….তুমি ঠিক আছে চলে যায় । ”

 

গল্পের ছলে দারুন সুন্দর ভাবে বলবো তরুণ কবি জ্যোতির্ময় মুখার্জি

“অ্যাই শোন্ না,

আজ থেকে আমরা ‘তুই’ নয় ‘তুমি’ বলবো,

আমরা তো lover

‘তুই’-টা ঠিক মানায় না বুঝলি….”

 

ইতিহাসের পাতা খুঁড়ে খুঁজে পেলাম একটি কিশোরীর স্বগতঃ সংলাপ, একটি কিশোরকে…..”

 

কিন্তু কবি সুমনা বসুর কাছে “আমার কাছে দুটোই সমান । আমি আমার ছেলেকে তুইও বলি আবার সময়ে সময়ে তুমিও বলি । ভালোবাসায় কিছুই ফারাক পড়েনা ।”

 

কবি পিয়ালী মুখার্জি বলল কবিতার ছলে “তুমি টা যেন কেমন কেমন ,, বড্ড লাগে ন‍্যেক্বা / তুই টা মনে শান্তি জাগায় ,মনে হয় না আমি একা …।”

 

কবি গৌরাঙ্গ মন্ডলও বললেন যে “তুই টা,,,, দীর্ঘ দিনের,,,,,  তুমি টা,,, খনেকের জন্য,,,, শেষ হয়ে যায়,,,, কাছের টা তুমি,,, আর নিজের টা তুই,,,,,,”

 

কথা শিল্পী ও কবি নীলা হোসেন এর কথায় “তুমি একটু দূরের, আর তুই এক্কেবারে কাছের বন্ধুকে বলা যায়। প্রেমিক অথবা   সহধর্মীনির ক্ষেত্রে তুই কথাটি মানানসই ও শ্রুতি মধুর নয় ।”

 

কবি অনন্যা রায় এর ভাষায় ”

আপনি যদি চৌকাঠ হয়

তুমি ঘরের প্রবেশাধিকার

তুই হলে হাতের বাঁধন

শক্ত করার অঙ্গীকার ।”

 

কবি সোমা বিশ্বাসের কথায় শুনতে পাই “তুমি শব্দটা শুনতে লাগে ন্যাকা ন্যাকা আর তুই টা খুব কাছের । একটা অধিকারবোধ থাকে যেন ।”

 

সোজা সাপটা ভাবে কবি মধুছন্দা অধিকারী বলল ”

যতটা হৃদয় আর প্রাণের মধ্যে ফারাক ঠিক ততটাই”

 

কবি মিঠু মুখার্জীও কিন্তু সহজ ভাবে বলল যে “তুই মনে হয়  অনেক আপন ,  (আমার একটা তুই চাই ) মনে হয় এই চাওটা সবারি মনে মনে”

 

শুভ্রা আইচ বললেন “তুমিটা সবাইকে বলা যায় ,তুইটা বলা যায় না ,শুধু বন্ধুদের ”

 

কবি কল্যাণী মুম্মার কথায় ”

তুইই টা বড্ড কাছের নিজেরও অনেক ”

 

কবি আর্য মন্ডল এর ভাষায় ”

তুমি গভীর….

তুই গভীরতর….

অনেক ‘তুমি’ ‘তুই’তে বদলে যায়…।”

কবি শিপ্রা দাসগুপ্ত সোজা ভাবে বলে দিল “তুই  নিজের মনে হয় ।”

প্রিয় কবি মনি আহম্মেদ এর ভাষায় ”

তুমি হলো  আপন

তুই হলো  নিজের ”

 

লেখক ও সাহিত্যিক এবং কবি সনাতন দাস এর কলমে বললেন ”

তুমি আর তুই’ এর মধ্যে সময়ের ব্যবধান। ”

 

তরুণ কবি বিকি দাস ও সহজ করে বলে দিল “তুই মানে খুব কাছের রে ”

 

কবি সুতপা পুততুন্ডও  মজার চলে বলে দিলেন “ম এর ”

গৌরব বণিকের কাছে ”

তুমি : সম্মান দিয়ে সম্মোধন করা

তুই: একান্ত আপনের জন্য সম্মোধন করা ”

 

কবি কাকলি চৌধুরীর কাছে ”

তুমি কেমন যেন ভাসা ভাসা ভাব, তুই টা শক্ত পোক্ত ”

 

অধিনাধ দে এর কথায় ”

তুই — চেনাশোনা ও প্রিয়জন , তুমি –চেনাশুনা ভাব, প্রিয়জন, হাল্কা নবতর অনুভূতি ….”

এবং সমদত্ত সেনের কাছে “তুই হোলো বরো কাছের আর তুমি হলো বরো আপন।”

 

যাই হোক সবাই কিন্তু “তুই” টাকে বেশি কাছের বলে জানিয়েছে । একমিনিট দাঁড়া ! তার মানে ইয়ে …ওহঃ বুঝছি এই ব্যাপার । এখন তবে প্রেমটা বেশ জমিয়ে ।।

কিন্তু আমার ভাগ্যটাই খারাপ শালা ও তো এখন আমায় তুই বলে কিন্তু সেই অনুভূতিগুলো আর নেই ।। কিংবা আছে অনেকটা গভীরে ।।

 

 

ইলাসট্রেশন ঃ ফারজানা মণি 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *